গত তিন মাসে (মে-জুলাই ২০২৬) পরিচালিত ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৬২৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, চোরাই যানবাহন, তামার তার এবং বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত তিন মাসের অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অর্জিত সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে আরপিএমপি।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ-এর দিকনির্দেশনায় নগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল এবং ওয়ারেন্ট তামিলের লক্ষ্যে আরপিএমপির সব ইউনিট এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ১,৬২৬ জনের মধ্যে রয়েছেন—ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি: ৩১৬ জন মাদক কারবারি: ২৮২ জন চোর: ৫৩ জন
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি: ৩২ জন হত্যা মামলার আসামি: ৫ জন নিষিদ্ধ অঙ্গসংগঠনের সদস্য: ১২ জন অন্যান্য মামলার আসামি: ৯২৬ জন
উদ্ধার হওয়া মাদক
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে—ইয়াবা: ২,৬৮১ পিসহেরোইন: ৪৭.২ গ্রাম গাঁজা: ২০ কেজি ৪ গ্রাম ফেন্সিডিল/এস্কাফ: ১৫৮ বোতল চোলাই মদ: ৩৩.৫ লিটার ট্যাপেন্টাডল: ৪৮ পিস মরফিন ইনজেকশন: ২৫টি চোরাই মালামালও উদ্ধার
বিশেষ অভিযানে ১৬ মণ চোরাই তামার তারবোঝাই একটি ট্রাক, ৫টি চোরাই অটোরিকশা এবং ৮টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া জুয়ার তাস, মোবাইল ফোন, স্ট্যাম্প, চেকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাই মালামাল ও অপরাধ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও সন্ত্রাস দমন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরপিএমপি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে যেকোনো অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানা অথবা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।