প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে মো. শহিদুল ইসলামকে।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, প্রায় সাত বছর আগে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে বোনের বাসায় নেওয়ার কথা বলে শহরে এনে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছেনি। কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং এখনো প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রংপুর টিভি ২৪