
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি নিবন্ধিত এতিমখানার বিরুদ্ধে কার্যক্রম না চালিয়েই সরকারি অনুদানের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। অথচ গত দুই অর্থবছরে সরকারি বিশেষ আর্থিক অনুদান হিসেবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মমিন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের খুরতা গ্রামের মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নেই এবং ভবনটিও বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. জুলফিকার আলী ও সহ-সভাপতি আবু রায়হান—উভয়েই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সরকারি চাকরিতে কর্মরত থেকেও তারা ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটির নামে সরকারি অনুদান উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে একই অভিযোগ গত ১৩ জুলাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের সন্তোষজনক নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরে ইউএনওর কাছে নতুন করে লিখিত আবেদন করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে সরকারি বিশেষ আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে। দুই অর্থবছরে মোট ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস আলী, রেজাউল করিম ও মাহবুবুর রহমান জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি চালু হলেও নিয়মিত কোনো কার্যক্রম তারা দেখেননি। তাদের দাবি, সরকারি অনুদান তোলার সময় সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠানটি খোলা হলেও বছরের বাকি সময় সেটি তালাবদ্ধ থাকে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর চলতি মাসের শুরুতে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ অবস্থায় পান। স্থানীয়দের কাছ থেকেও কার্যক্রম না থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. জুলফিকার আলী জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং অনুদানের অর্থ এখনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবেই রয়েছে।
এ বিষয়ে সহ-সভাপতি আবু রায়হান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সভাপতিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।