প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 1, 2026 ইং
রংপুরে চার খুন: ৮০ ঘণ্টায় ৮০ কল, হত্যাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে ডিবির সন্দেহ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রংপুর কেন্দ্রীয় কারাফটকে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আরপিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে ডিবি:
প্রেস ব্রিফিংয়ে তোফায়েল আহমেদ জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পরিদর্শক জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে আসামিদের ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তিনি বলেন, "চাঞ্চল্যকর এই ফোর মার্ডার মামলার তদন্তে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছি। মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি আমরা। আদালতের অনুমতিক্রমে কারাফটকে যে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তা অব্যাহত থাকবে।"
৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার ফোনালাপ ও পূর্বপরিকল্পনার আলামত:
এদিকে পুলিশের কাছে আসা নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্যের কথা জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেও তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ৮০ ঘণ্টার মধ্যে তারা দুজন মোট ৮০ বার একে অপরের সাথে ফোনে কথা বলেছে।
প্রতি ঘণ্টায় গড়ে একবার করে ফোনালাপের এই অস্বাভাবিক তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হচ্ছেন যে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটানো হত্যাকাণ্ড।
রিমান্ড শুনানি ও সার্বিক প্রেক্ষাপট:
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) ডিবির পক্ষ থেকে আসামিদের ৩ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম আসামিদের লিগ্যাল এইড আইনজীবীদের ভার্চুয়ালি উপস্থিতিতে ২ দিন ৩ ঘণ্টা করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর দায়ের করা হত্যা মামলায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ডিবি পুলিশ বর্তমানে মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রংপুর টিভি ২৪