দেশের শহর ও গ্রামীণ এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও দেড় থেকে দুই বছরের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ও বর্তমান নীতি:
জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কারিগরি ত্রুটি এবং শিল্প-কারখানায় চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
আগের বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, "পূর্বে ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ চালু রেখে গ্রামগুলোতে চরম লোডশেডিং দেওয়ার একটি বৈষম্যমূলক নীতি ছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। সাময়িক এ সংকটে শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই লোডশেডিংয়ের চাপ এখন সমান ও সুষমভাবে বণ্টন করা হচ্ছে।"
বিদ্যুৎ খাত পুনরুদ্ধারের চার পরিকল্পনা:
বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য সরকারের চারটি বড় লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা:
ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ): নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে আগামী দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে, যা সম্পন্ন হলে এলএনজি আমদানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ভোলার গ্যাস ও নতুন কূপ: ভোলার গ্যাসকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। একই সঙ্গে বাপেক্সের মাধ্যমে দেশের ১৫০টি কূপ খনন ও পুনর্খননের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক চালুকরণ (ট্রায়াল রান) শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী বছর থেকেই এটি পুরোদমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে।
উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব মেগা প্রকল্প ও উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য ও স্বাবলম্বী অবস্থানে পৌঁছাবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।