স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবের তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই সুপারিশ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক এবং বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনারদের সঙ্গে সাড়ে এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ পদধারীদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি:
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "সুদীর্ঘকাল ধরে শিক্ষকেরা সব নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা প্রার্থী হয়েছেন। সংসদ নির্বাচনে তাঁরা অংশ নিতে পারলে স্থানীয় নির্বাচনে পারবেন না—এটি স্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হবে।"
একই সঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার জোর দাবি জানায় জামায়াত।
অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ বাতিল ও ৯ দফা দাবি:
বৈঠকে ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁর নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানায় জামায়াত। দলটির অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে তিনি বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, "সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন রাজনৈতিক নিয়োগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী। এ পদে তাঁকে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।" ফলোআপ এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দলটির পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জোটগত অবস্থান:
নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত নেতা জানান, নির্বাচন বর্জনের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। তফসিল ঘোষণার পরই দলটি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ১১ দলীয় জোট কেবল জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয়েছিল। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব দল আলাদাভাবে স্বাধীন প্রার্থী দিতে পারবে এবং এটি প্রতীক ছাড়া ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাচন হবে।
বৈঠকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।